Tin Certificate BD | টিন সার্টিফিকেট কি | টিন সার্টিফিকেটের সুবিধা ও অসুবিধা | টিন সার্টিফিকেট কি কি কাজে লাগে?

আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করব টিন সার্টিফিকেট সম্পর্কে। টিন সার্টিফিকেট কেন দরকার এর সুবিধা অসুবিধা ও অনলাইন থেকে কিভাবে টিন সার্টিফিকেট বের করা যায় এর বিস্তারিত। প্রথমেই আমরা আলোচনা করব টিন সার্টিফিকেট কি এটা নিয়ে।


Tin Certificate BD | টিন সার্টিফিকেট কি | টিন সার্টিফিকেটের সুবিধা ও অসুবিধা | টিন সার্টিফিকেট কি কি কাজে লাগে?


টিন সার্টিফিকেট কি ( What is tin certificate )

আপনি দেশের একজন করদাতা এবং আপনার একটি ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর আছে এরকম একটি সনদকেই টিন সার্টিফিকেট বলা হয়। 

10 ডিজিটের টিন নম্বরটি কর প্রদানকারী হিসেবে আপনার একটি পরিচিত নম্বর যেটি দিয়ে আপনাকে সনাক্ত করা যাবে। এছাড়া বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই টিন নাম্বার ( Tin Number ) দিয়ে টিন সার্টিফিকেট যাচাই করতে পারে। 


এই Tin নম্বরের মাধ্যমে করদাতাকে চেনার উপায় হচ্ছেঃ 

  • প্রথম তিনটি সংখ্যা দ্বারা করদাতার কর অঞ্চল 
  • মাঝের তিনটি সংখ্যা দ্বারা সেই করদাতার পদমর্যাদা
  • বাকি চারটি সংখ্যা দ্বারা করদাতার পরিচিত চিহ্নিত করা হয় 


টিন করা মানেই তাকে কর দিতে হবে এমনটি নয়। আপনার আয় কর সীমার মধ্যে আসলেই তখনই কর পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে টিন সার্টিফিকেট করতে আয়কর অফিসে যেতে হয় না। শুধুমাত্র আপনার মোবাইল নাম্বার জাতীয় পরিচয় পত্র ( NID ) দিয়ে টিন সার্টিফিকেট করতে পারবেন।


Read Also: পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২২ | পাসপোর্ট করতে কি কি লাগবে?  


কত টাকা আয় হলে আয়কর দিতে হবে 

টিন থাকলেই কর দিতে হবে না। তবে আপনাকে শুধুমাত্র আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

বছরে আপনার কতো টাকা থাকলে আপনাকে আয়কর দিতে হবে তা নিচে দেওয়া হলঃ

পুরুষ ৩০০০০০
সব বয়সের নারী ৩৫০০০০
৬৫ বছরের উর্ধ্বে সব নাগরিক ৩৫০০০০
প্রতিবন্ধীদের ৪৫০০০০


যদি আয় এর কম বা কম সীমার নিচে হয় তাহলে আয়কর দিতে হবে না। তবে যদি আপনার টিন সার্টিফিকেট থেকে আপনাকে জিরো রিটার্ন ( শুন্য বিবরণী ) জমা দিতে হবে। 


টিন সার্টিফিকেট কেন দরকার 

শুধুমাত্র ব্যবসা চাকরি নয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের বাধ্যতামূলকভাবে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার প্রয়োজন হয়। 

  • ব্যবসা শুরু করতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে
  • গাড়ির মালিক হতে 
  • সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল থাকা কোন জমি ফ্ল্যাট বা ভবন রেজিস্ট্রেশন করতে 
  • ক্রেডিট কার্ড পেতে 
  • সঞ্চয় পত্র কিনতে
  • কোন কোম্পানির শেয়ার কিনতে 
  • নিজের কোম্পানি নিবন্ধন করতে 
  • কোন পণ্য আমদানি লাইসেন্স নিতে 
  • মুক্ত পেশাজীবী যেমন হিসাবরক্ষক 
  • আইনজীবী চিকিৎসক প্রকৌশলী প্রেসার চর্চা করতে 
  • নির্বাচনে প্রার্থী হতে 
  • ব্যবসায়ী সমিতি বা কোন নিবন্ধিত সংগঠনের সদস্য হতে 
  • সরকারি আধা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার দরপত্রে অংশ নিতে 
  • রাইড শেয়ারিং কোম্পানিতে গাড়ি দিতে 


উপরোক্ত ক্ষেত্রে আপনার আয় করসীমার মধ্যে না আসলেও আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে টিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে। 


Read Also: পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন



টিন সার্টিফিকেট সুবিধা সমূহ 

টিন সার্টিফিকেট এর প্রথম সুবিধা হলো আপনি দেশের একজন গর্বিত করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হবেন। আর তার আয়কর দিয়ে দেশ চলবে। এছাড়া আরো কিছু ব্যক্তিগত সুবিধা রয়েছে যেমন ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ থেকে ১০% কর্তন করা হবে যদি না থাকে। 15% কর্তন হতেও পারে। 

ব্যাংক ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড নিতে টিন সার্টিফিকেট থাকতেই হবে। বিভিন্ন সময়ে সরকার বিভিন্ন পেশাজীবী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেয়া। এসব সুবিধা নিতে টিন সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন। 


টিন সার্টিফিকেট এর অসুবিধা 

টিন সার্টিফিকেট একটি অসুবিধা হচ্ছে আপনার করযোগ্য আয় থাক বা না থাক আপনাকে প্রতিবছর অবশ্যই ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে। রিটার্ন জমা না দিলে আপনার ইনকাম কালো টাকা হিসেবে গণ্য হবে। 

যদি পরপর তিন বছর আপনার করযোগ্য আয় শূন্য হয় বা আপনার বার্ষিক আয় করসীমার মধ্যে না আসে আপনি ৪র্থ বার থেকে রিটার্ন না দিলেও চলবে। তাছাড়া আপনি আপনার আয়কর নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

আজ এই পর্যন্তই পরের আর্টিকেল এ আমি আপনাদেরকে বলবো, কিভাবে অনলাইন থেকে টিন সার্টিফিকেট বের করার নিয়ম। প্রতিটি ধাপে ধাপে আপনাদের সাথে আলোচনা করব সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন ধন্যবাদ।

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post